দুই বাংলার সংস্কৃতির সেতু বহিবে সাধনায় চিরদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পশ্চিমবঙ্গের লেখক, গবেষক স্বপন মৈত্র ও কৃষ্ণনগর রূপকথার নাট্যজন তৃষিত মৈত্র কে কুমারখালী ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরিষদ সংবর্ধনা দিলো গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬-৩০টায়। কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সাহিত্য সন্ধ্যায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা লেখক, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শিশির কুমার রায়।

অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে আমন্ত্রিত ওপার বাংলার লেখক স্বপন মৈত্র ও তৃষিত মৈত্র কে ফুল তুলে দিলেন সংগঠনের সভাপতি এবিএম কাইসার রেজা পাশা ও জয়িতা রওশন আরা বেগম নীলা। উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনছুর মজনু ও নাট্যজন মানু মাহমুদ। গবেষক, লেখক স্বপন মৈত্র কে সম্মাননা স্মারক তুলে দিলেন সকল অতিথিরা।

সাহিত্য মানুষ ও সমাজের ভিতর থেকে শুরু করে সার্বিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে এবং সংস্কৃতির সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করে যা সকল সীমানা অতিক্রম করে আধুনিকোত্তর বোধের জাগরণ ঘটায়। বাংলা আমার-তোমার মা, এই মা সকলের তাই বাংলার মিলিত মানুষ, মানুষ নিধি হয়ে সকলের মঙ্গল করুক, অনূদিত হোক সত্য ও ন্যায়ের মূল্য আর দূর হোক সকল অনাচার, আত্মম্ভরিতা। এপার ওপারের ফারাক মুছে যাক, সকল ক্লাশ ঘুচে যাক। এমন সারব্রত সাধনায় গতকাল ফাগুন সন্ধ্যা মেতেছিল খানিকক্ষণ। এই সুর উপস্থিত সভ্যগনের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো। তাতে সায় দিলেন কবি সৈয়দ আবদুস সাদিক, কুমারখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শরীফ হোসেন, কুমারখালী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এটিএম আবুল মনসুর মজন, কুমারখালী নাগরিক পরিষদের সভাপতি আকরাম হোসেন, এড, আব্দুল মোতালেব, কুমারখালী সংগীত বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুর রফিক বিশ্বাস, কুমারখালী মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা বেগম নীলা, হোসনে আরা রুবী, প্রভাষক মুনিরা বেগম মেরী।

অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম পরে সঞ্চালনায় আসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দিলেন ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরিষদ সাধারণ সম্পাদক কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস। সংবর্ধনা পাওয়া পশ্চিম বাংলার লেখক স্বপন মৈত্র কে স্ব স্ব বই উপহার দেন কবি সৈয়দ আবদুস সাদিক, কবি মেহেদী হাসান, কবি কিরন আরামুল হক,। ছড়া পাঠ করে শোনান ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ছড়াশিল্পী, লেখক, কবি সোহেল আমিন বাবু, কবিতা পাঠ করেন কবি রুহুল আযম, কবি সিদ্দিক প্রামাণিক, কুমারখালীর পরিচয় গানে গানে শোনান ডাঃ মজিবর রহমান, তিনি কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ও গগন হরকরার গানও করেন। লিটন আব্বাস এর বেনেবউ গ্রন্থ তার পক্ষে স্বপন মৈত্র ও তৃষিত মৈত্র কে তুলে দিলেন সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম,নাগরিক পরিষদের সভাপতি আকরাম হোসেন ।
নেপথ্যের নায়ক সাংবাদিক দীপু মালিক ফটোগ্রাফি সহ গুরুকাজগুলো করেন সাথে এ অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুবাদ করেন সহ সভাপতি রাসেল মোশাররফ চৌধুরী, সুজয় চাকী, মুন্সী ওসমান গনি, মেহেদী হাসান টিটু, মিলন, রবিউল, আজমল হোসেন, সাংবাদিক আর কে জামান রিপন। উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে অতিথিদের সাথে কথা ও কাজ করেন ইশরাত জাহান, শামিমা আক্তার, মিনা, ইঞ্জিনিয়ার রবিউল করীম, হাসান জাহাঙ্গীর, কবি পরিমল কুমার ঘোষ, কবি আব্দুর রাজ্জাক, সাংবাদিক আঃ রাজ্জাক, প্রভাষক রাজিবুল আলম প্রমুখ। আর এই অনুষ্ঠান আয়োজনে মেলবন্ধনের কাজ এবং সহায়তা করেছেন এড শংকর মজুমদার কাজল ও এড জয়দেব বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.