কুষ্টিয়া বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাষ্টার্স শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাষ্টার্স শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল ২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ রোজ রবিবার বেলা ২টায় স্থানীয় কুষ্টিয়ায় পাবলিক লাব্রেরীর সামনে জাতীয় বি

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের এক দফা দাবি এমপিও ভুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধন ও মানববন্ধন শেষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরবার একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ সফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তার এর পরিচালনায় এই সময় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মোঃ সিরাজুল হক, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জোর্য়াদার, অধ্যাপক ইমদাদুল জোয়ার্দার, পারভীন আক্তার, আবু কায়েস, ড. শর্মিষ্ঠা হোসেন, রহুল আমিন, এস.এম দারুল ইসলাম, মোঃ মাহফুজ আলম, আলী আহমেদ, কামরুন নাহার, আসিয়া খাতুন, মাসুদ কামাল, রুমেল ও আরো অনেকে। বক্তারা বলেন, আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালের প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি মোট ৮৫৭টি কলেজে ডিগ্রী, অনার্স , মাস্টার্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করন করায় অবশিষ্ঠ (৮৫৭-৬৫৪)=২০৩টি বেসরকারি কলেজে দীর্ঘ ২৭ বছর প্রায় ৩৫০০ জন নন এমপিও অনার্স মাষ্টার্স শিক্ষক পাঠ দান চলছে।

আমাদের এমপিও ভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডিও লেটারসহ ১০ম জাতীয় সংসদের শিক্ষামন্ত্রলয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে প্রেরন করলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবহেলায় ‘‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’’ এ আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করায় আমরা প্রায় ৩৫০০জন শিক্ষক এবারও এমপিও বঞ্চিত হিেছ। ১৯৮২ সালে থেকে শিক্ষামন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে ‘‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’’ পরিবর্তন, সংশোধন, সযোজিন করা হয়। সর্বশেষ প্রায়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর নতুনপদ সৃজন করে ‘‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’’ প্রণয়ন করা হলেও বেসরকারি কলেজে সৃজনকৃত পদে কর্মরত অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। নতুন জনবল কাঠামোতে আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করার কারনে খালি হাতে অনেক শিক্ষকের অবসর গ্রহন করতে হচ্ছে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসলেও বেতন না পেয়ে তারা অন্যত্র চাকুরি খুুঁজে চলে যাচ্ছেন।

শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন কি করে সম্ভব? জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের এমপিও ভক্তির কোন উদ্যোগ গ্রহন না করে প্রতিবছর নতুন নতুন কলেজে অনার্স মাস্টার্স অনুমোদন দিয়ে মেধাবীদের বেকার করার অশুভ নীতি গ্রহণ করেছে যার ফলে হাজার হাজার মেধাবীর জীবনে বেকারত্বের কালে অভিশাপ নেমে আসছে। আমাদের কাঠামো ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কলেজে অনার্স মাস্টার্স অনুমোদন না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’’ দ্রুত সংশোধন করে বেসরকারি কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মানবতার মা ও শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এমপিও ভুক্তির ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমাদে এই কর্মসূচী চলবে এবং সারাদেশে একযোগে বেসরকারি কলেজে কর্মবিরতি চলবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মানবিক আবেদন জানাচ্ছি আমাদের এমপিও ভুক্তির ঘোষনা দেয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.