জনগণের সেবা করতে এসেছি ,দুর্নীতি করতে আসিনি :প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্ব ব্যাংক এনেছিল, প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্নীতি দূর করে উন্নয়ন করতে। দুর্নীতি যথেষ্ট কমাতে পেরেছি বলেই এতো উন্নয়ন-সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি করছি। কারণ অসৎ উপায়ে বিরিয়ানী খাওয়ার চেয়ে সৎভাবে বসবাস করে নুন খেলেও তৃপ্তি। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনি বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কোন চুক্তি হয়নি, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্য কোন দেশের যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। তবে পবিত্র মক্কা ও মদীনা যদি আক্রান্ত হয় তবে তার নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের সেনাবাহিনী অবশ্যই কাজ করবে। এখনে ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক দেশের সাথে আমাদের সমঝোতা স্মারক রয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের অনেক দেশে সাথে প্রতিরক্ষা চ‚ক্তি আছে। বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হলে সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। আমারা সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি। ফোর্সেস গোল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত কুয়েতকে গড়ে তুলতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরী সহায়তায়, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য। কারণ তারা আমাদের সাথে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং অন দি ফিল্ড অব দ্যা কনস্ট্রাকশন শীর্ষক এ সমাঝোতা হয়েছে।

কওমী মাদ্রাসা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ভূখন্ডে শিক্ষা শুরু কওমী মাদ্রাসা থেকে। দেশে ২০ হাজারের মতো মাদ্রাসা রয়েছে। ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এতিম, গরীব, দরিদ্র্য ঘরের ছেলে- মেয়েরা সেখানে পড়তে যায়। পড়াশোনার একটা জায়গা পাচ্ছে। মাদ্রাসাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, সমাজের একটি অংশ। কাউকে আমরা বাদ দিতে পারি না। দীর্ঘদিন কওমী মাদ্রাসা পাঁচটি বোর্ডে বিভক্ত ছিল। মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথাও চাকুরি করতে পারতো না। এরাতো দেশেরই সন্তান, তাদেরকে আমরা ফেলে দেব। কারিকুলাম তৈরি করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সেজন্য উদ্যোগ নেই। 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেস্টার ফলে কওমী মাদ্রাসার নেতাদের সমঝোতায় নিয়ে আসি, দেওবন্দের ক্যারিকুলাম তারা গ্রহণ করেছে। দাওরাইয়ে হাদিসকে আমরা মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মাদ্রাসা জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদের কারখানা এ অভিযোগের সঙ্গে আমি একমত নই। হলি আর্টিজানের ঘটনায় দেখা গেছে, ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা করা উচ্চবিত্তের সন্তান জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সবকিছু থাকার পরও তারা জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র মাদ্রাসাকে দোষারোপ করলে চলবে না। সংসদে সর্বসম্মতক্রমে আইন পাস করেছি, এ নিয়ে আর কোন কথা বা প্রশ্ন তো থাকতে পারে না। 

বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতস্ফুর্ত ভোটের রায়। জঙ্গী-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণ আর জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস আর দেখতে চায় না, নির্বাচনে তাই প্রমাণ হয়েছে। তাই বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলবো, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যতো কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোন বাধা দেব না। 

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদে এসে যা বলার কথা বলুন, আমরা কোন বাধা দেব না। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যদের অনেকে সেনা প্রিয় বলেন। দেশের এমন কিছু লোক আছে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আসলেই তাদের সুবিধা হয়। তারা কোন উন্নয়ন চোখে দেখে না। তবে তারা কে কি বললো তাতে কেয়ার করি না, আমি কেয়ার করি দেশের জনগণকে। তাদের মতো অতো জ্ঞানী-গুণি না হলেও দেশকে আমরা উন্নয়ন করতে পারি তা প্রমাণ করেছি। এখন ভিক্ষা দেওয়ার কোন লোক পাওয়া যায় না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। এ বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্লাণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ। 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *