কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, বাড়ছে আতঙ্কও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত দু সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি হলেও চলতি সপ্তাহে এই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩২ জনে। এর মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক নারী ও শিশুসহ ৫ জন। তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে যেহেতু প্রতিদিনই এই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে কুষ্টিয়ার মানুষ বেশ আতঙ্কের মধ্যেই রয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও তাপস কুমার সরকার জানান এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাসপাতালে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখনো ভর্তি আছে ৫ জন। তারা জ¦র নিয়ে হাসপাতালে আসলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের রক্তে ডেঙ্গু রোগের জীবানু ধরা পড়ে। এবিষয়ে তিনি জানান প্রথমবারের মত কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেহেতু ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে সেকারনে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। একারনে যারা দিনের বেলায় ঘুমান তাদেরকে মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। মশারী টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া বাড়ির আশেপাশে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে হবে। ডোবা কিংবা নালা সৃষ্টি হয়ে যাতে করে সেখানে মশা জন্মাতে না পারে। রোগীরা জানান, সবারই হঠাৎ করে জর আসে কোন ভাবেই আর সারছিল না। পড়ে ডক্টরের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে বলে আমার ডেঙ্গু জর হয়েছে। তার পর এসে ভর্তি হলাম কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সবারই এ ডেঙ্গু জরের ঘটনা একই রকম। এদিকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও কুষ্টিয়া স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরকর্তৃপক্ষ এমনকি জেলা প্রশাসনের কাউকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাছাড়া কুষ্টিয়া শহরের খুব একটা জলাবদ্ধতা নেই। ড্রেনেজ নির্মাণের কারনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

কিছুদিনের মধ্যে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে বলেন পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে ডেঙ্গু রোগী ও স্বজনদের দাবী, যেহেতু এধরনের রোগী বেশী সেজন্য তাদের জন্য নতুন ডেঙ্গু বিভাগ খুলে তাদের আলাদা করে রাখা প্রয়োজন । যেন তাদের থেকে অন্যরা আক্রান্ত না হয়। এদিকে ঠিকমত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোন কোন রোগির এখনো অবস্থার অবনতি হয়নি এমনও দাবী রোগীর স্বজনদের। কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মানুষ। ডেঙ্গু রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবী এ রোগ যেন আর কারও না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedin
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *