কবিরা ভোটের মাঠে

অনলাইন ডেস্ক: ভোটের লড়াইয়ে নেমে দরাজদিল কোনো নেতাকে পাশে পাননি চিরবিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলাম, তাই তাঁর আর ভোটে জেতাও হয়নি। স্বরাজ দলের হয়ে ১৯২৬ সালে এই কবি নির্বাচন করেছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক পরিষদে ঢাকা বিভাগের মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে সদস্য হওয়ার জন্য। সেই সময় স্বরাজ দলের তরফ থেকে নজরুলকে বিধানচন্দ্র রায় ভোটের খরচ হিসেবে দিয়েছিলেন তিন শ টাকা; কিন্তু দরকারের তুলনায় তা ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। নজরুল নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে ভোটপ্রাপ্তির আশায় স্থানীয় বহু নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ফরিদপুরের প্রভাবশালী পীর বাদশা মিয়ার কাছ থেকে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বানসংবলিত এক ‘ফতোয়া’ও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা মোটেও নজরুলের অনুকূলে ছিল না। যদিও ভোটের কিছুদিন আগেও কবি জসীমউদ্‌দীনকে পরম আত্মবিশ্বাসে তিনি বলেছিলেন, ‘ঢাকায় আমি শতকরা নিরানব্বইটি ভোট পাব। তোমাদের ফরিদপুরের ভোট যদি আমি কিছু পাই তাহলেই কেল্লাফতে।’ জসীমউদ্‌দীন অবশ্য কবির প্রতি প্রীতি-শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভোটে জেতা নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারেননি। নজরুলও ধীরে ধীরে ভোটের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলেন। এর কারণ প্রধানত অর্থের অভাব।বিধান রায় নজরুলের উজ্জ্বল ব্যক্তি-ভাবমূর্তিকে ভোটের মাঠে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জন্য রাখেননি পর্যাপ্ত অর্থ ও লোকবলের জোগানের ব্যবস্থা। শেষমেশ ভোটের দিন জসীমউদ্‌দীন কবিকে এক ভোটকেন্দ্রের পোলিং অফিসারের সামনে গিয়ে বসিয়ে দিয়ে আসেন। কারণ তাঁর ‘মনে একটু ভরসা ছিল, কবিকে সামনে দেখিয়া ভোটাররা হয়তো তাঁহাকে সমর্থন করিবেন।’ নজরুল ভোট শেষে এমন কথাও বলেন যে বহু লোক তাঁকে যে ভোট দিয়েছে তা তিনি তাঁদের মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছেন! কিন্তু ভোটের ফল বেরোলে দেখা গেল পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে নজরুল রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। ভোট পেয়েছেন মাত্র ১০৬২টি এবং যথারীতি জামানত হারিয়েছেন।নজরুলের ভোট করার ৬৫ বছর পর, বাংলার আরেক কবি নির্মলেন্দু গুণ ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছিলেন। তাঁর মার্কাটিও ছিল অভিনব—কুমির। নির্মলেন্দু গুণ নির্বাচনে ১২৪৯টি ভোট পেলেও নজরুলের মতো তিনিও নিজের জামানত হারিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.