ভারতের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে

অনলাইন ডেস্ক : লাখ লাখ মানুষকে দরিদ্র্য করে ভয়াবহ এক অর্থনৈতিক মন্দার ঠিক মাঝপথে রয়েছে ভারত। ধীরে ধীরে দেশটির অর্থনীতি যেভাবে নাজুক অবস্থার দিকে যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় দেশটির সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ভারতের অর্থনীতিবিষয়ক একটি বার্ষিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলছে, বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির একটি হলো ভারত, কিন্তু দেশটির ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বিনিয়োগ এবং কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব হ্রাসসহ অন্যান্য নানা বিষয় একসঙ্গে অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল-সংক্রান্ত বিভাগের কর্মকর্তা রণিল সালগাদো সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, লাখ লাখ মানুষকে দরিদ্র্য করে উল্লেখযোগ্য এক অর্থনৈতিক মন্দার ঠিক মাঝপথে রয়েছে ভারত।

ভারতের চলমান অর্থনৈতিক নাজুক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে আইএমএফ এর ওই কর্মকর্তা বলেছেন ভারত যদি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় তাহলে দেশটিকে এখনই নানা ধরনের নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেতে সরকারের হাতে সীমিত উপায় আছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলছে, ভারতের উচিত হবে কথিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপের নামে তারা সরকারি কোষাগার থেকে তহবিল যুগিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর যে কাজ করছে তা পরিহার করা। এর বদলে দেশটির সরকারকে ঋণ কমিয়ে আর্থিক সম্পদের খাতগুলোকে মুক্ত করতে হবে, যা বিনিয়োগ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী বছরগুলোতে ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক পদক্ষেপ বৃদ্ধি করা। তবে রাজস্ব তৈরি করে তাদের ভিত তৈরি করে দিতে হবে। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে ভারতের ঋণ সবচেয়ে বেশি, এটা অবশ্যই হ্রাস করতে হবে তাদের।

আইএমএফ এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপিনাথ গত সপ্তাহে বলেছেন, ভারতের অর্থনীতির শ্লথগতি আশ্চর্য হওয়ার মতো এবং এটা নেতিবাচক। ভারত তাদের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আগামী মাসে আইএমএফ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুকে’ তা কমিয়ে দেয়া হবে।

২০১৯ সালে ভারত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৭ শতাংশ, কিন্তু গত অক্টোবরে আইএমএফ তা প্রায় ১ শতাংশ কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে দেয়। আইএমএফ কর্মকর্তা সালদাগো বলেছেন, যদি এরকম অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা চলতে থাকে তাহলে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণদান হার আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) চলতি বছরে পাঁচবার ঋণদানের হার কমিয়েছে, যা বিগত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের প্রত্যাশিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ করেছে।

ভারতের অর্থনীতি গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। যা তার আগের বছরও ছিল ৭ শতাংশ। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই হিসাব দেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারে নানা পদক্ষেপ নিলেও সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.