বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


আজ ২৫ বৈশাখ (৮ মে শুক্রবার) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটিকে ঘিরে কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে থাকছে ৩দিন ব্যাপী নানা আয়োজন। ধুইয়ে মুছে রংতুলির আঁচড় দিয়ে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে কুঠিবাড়িকে। কবিগুরুর জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে কুঠিবাড়ি আঙিনার বাইরে বসছে গ্রামীণ মেলাও। বিশেষ দিবসে কবিভক্ত ও দর্শনার্থীরা শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ঘুরতে এসে খুঁজে পান কবিকে, অনুভব করেন তাঁর স্পর্শ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তাঁর স্মৃতিধন্য শিলাইদহের এই কুঠিবাড়িতে। এখানে বসেই তিনি রচনা করেছেন কালজয়ী সব কাব্যগ্রন্থ, ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস। তাইতো রবীন্দ্র সাহিত্যে শিলাইদহের গুরুত্ব অপরিসীম। যার কারণে শুধু জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উপলক্ষ নয়, সবসময়ই কবির স্মৃতি হাতড়াতে দেশ বিদেশের নানা প্রাপ্ত থেকে ছুটে আসেন কবি ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। খুঁজে পান কবির সৃষ্টি ও তাঁর রচিত সাহিত্যভান্ডারের পরশ।কবিকে জানতে ও চিনতে ছুটির অবসরে শিক্ষার্থীরাও ছুটে আসেন এই কুঠিবাড়িতে। কুঠিবাড়ির আঙিনা ঘুরে পুঁথিবিদ্যার বাইরে কবির ব্যবহৃত সবকিছু দেখে আনন্দ অনুভব করে তারা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয়ভাবে এবছর ৩ দিন ব্যাপী কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ২.৩০টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই চন্দ্র রায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করবেন। কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুঠিবাড়ির কাষ্টোডিয়ান মো. আল আমিন।

৩দিনের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র মঞ্চে থকবে আলোচনা, গান, নৃত্য, কবিতা, আবৃত্তি ও নাটক।

বাঙ্গালীর জাতিস্বত্ময় মিশে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বিস্তৃত জ্ঞান ভান্ডার নতুন প্রজন্মসহ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কবির জন্মদিনের এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কবিভক্তসহ সাহিত্য বিশারদগণ।

জন্মবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ব কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) তার ভেরিফায়েড পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বাংলা সাহিত্যের মহত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার অমর অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি অনন্ত শান্তি।

তিনি লেখেন, ‘বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণই ছিল তার অবিনাশী সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলার পরতে পরতে এই মানুষ, মানবতা, শান্তি, প্রেম ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অনন্যসাধারণ শৈল্পিক কুশলতায়, যা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতের অমূল্য সম্পদ।’

তারেক রহমান লেখেন, ‘তার সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিকতার মর্মকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে অকুণ্ঠ থেকেছেন সব সময়।’

সরকার প্রধান লেখেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে বিশ্বকবির অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের গান হয়ে উঠেছিল প্রেরণার বিশেষ উৎস। শাশ্বত বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, অর্থাৎ সব অনুভব বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার কথক হিসেবে যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা পেয়েছি তা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশেরই সৃষ্টি।’

তিনি লেখেন, রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত।

রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন ১৯১৩ সালে, গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনার জন্য নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেন। তিনি আমাদের সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, অহিংস মতাদর্শ ও বাংলার মরমি-ভাববাদী চেতনার সমন্বয় সাধন করে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেন পরম মমতায়।

বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধ-সংঘাত, বীরের রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারায় ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত পরিস্থিতি, উগ্রবাদের উত্থান, জাতিতে জাতিতে হানাহানি—এসবের কারণে রবীন্দ্রনাথ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।

তিনি আরো লেখেন, মানুষের প্রত্যক্ষ কল্যাণ কামনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে ভেবেছেন।

শিশুসহ নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন শান্তিনিকেতন। সেই সঙ্গে তিনি পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাবহারিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার ক্ষেত্রে চিরকাল বিশ্বের জানালাকে খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।