অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জমকালো আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকায়। এবারই প্রথম যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে প্রথম ম্যাচের মধ্য দিয়ে রেকর্ড ১০৪ ম্যাচের এই ফুটবল মহাযজ্ঞের সূচনা হবে, যা ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হবে।
এবারের বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ হলো তিনটি আয়োজক দেশেই পৃথক ও জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা দেবে। অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিখ্যাত ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচের তত্ত্বাবধানে তিনটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবলের মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠানগুলো সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানই নিজ নিজ দেশের ম্যাচের ঠিক ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে।
বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে, যা বর্তমানে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। ১১ জুনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি ও পুতুল শিল্পের প্রদর্শনী থাকবে। এখানে পারফর্ম করবেন শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকা, যিনি বার্না বয়ের সাথে তাঁর নতুন গান পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া মেক্সিকোর মঞ্চ মাতাতে থাকছেন জে বালভিন, আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় শিল্পী টাইলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠে নামবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই মেগা ইভেন্ট উপলক্ষে মেক্সিকো সিটি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সেদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেই বেতন ও পেনশনের দাবিতে মেক্সিকোর শিক্ষক ইউনিয়নের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের হুমকি আয়োজকদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলছে, যদিও কর্তৃপক্ষ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।
এর ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ১২ জুন কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাকি দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কানাডার অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে তাদের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বা কালচারাল মোজাইকের থিমে। সেখানে গান গাইবেন অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে এবং নোরা ফাতেহির মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। অনুষ্ঠান শেষে কানাডা তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম হোম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিটা, রেমার পাশাপাশি কে-পপ তারকা লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিশ্ব বিনোদনে তাদের প্রভাবকে তুলে ধরিই এই শিল্পী তালিকা সাজানো হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এই মেগা আয়োজন সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা ফক্স স্পোর্টস, টেলেমুন্ডো এবং টুবি অ্যাপের মাধ্যমে বিনামূল্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচগুলো দেখতে পাবেন। কানাডায় সিটিভি ও টিএসএন এবং মেক্সিকোতে টেলেভিসা ও টিভি আজতেকা এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে বিবিসি এবং আইটিভিতে খেলা দেখা যাবে। স্টেডিয়ামগুলোতে প্রায় দুই লাখ দর্শকের উপস্থিতির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল উৎসবের সূচনা প্রত্যক্ষ করবেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি নিউজ চ্যানেল সময় টেলিভিশন। এর পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখতে পারবেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টস-এর পর্দায়। এই তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম (জোট) সরাসরি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে।
তিনটি শহরে আয়োজন হলেও মূল ভাবনা একই আয়োজক দেশগুলোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পী, লোকজ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজশিল্পের মাধ্যমে মেক্সিকোর সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। সেখানে বিশ্বকাপের সরকারি গান ‘ডাই ডাই’ পরিবেশন করবেন শাকিরা ও নাইজেরীয় গায়ক বার্না বয়।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গানের শিল্পীদেরও দেখা যাবে মঞ্চে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক ও গীতিকার টাইলা।
বিশ্বকাপ শুরুর দিনকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো সিটিতে বিশেষ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৬ থেকে ১৭ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান হবে প্রায় ১৩ মিনিটের।
টরন্টোর আয়োজনে থাকবে বিশেষ ক্ষণগণনা। কানাডার ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে সেখানে। মঞ্চে পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়, ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠানে থাকবে বৃহৎ পরিসরের দৃশ্যপ্রযুক্তি ও গল্পভিত্তিক উপস্থাপনা। সেখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার।
এবারের তিনটি উদ্বোধনী আয়োজনের প্রযোজনা পরিচালনা করছেন মার্কো বালিচ, যিনি অলিম্পিকের একাধিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত। আয়োজনে ভিন্নতা থাকলেও তিনটি অনুষ্ঠানের মূল বার্তা এক ভাষা, সংস্কৃতি ও সীমান্তের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেওয়ার ফুটবলের অসাধারণ শক্তিকে উদযাপন করা।
অনুষ্ঠানটি ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচার করবে ফক্স ও এফএস১। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধনী ম্যাচগুলোও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টিভি বিশ্বকাপের খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। এছাড়া মাই রবি এপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীনফোনের বায়োস্কোপ থেকেও দেখা যাবে ম্যাচ।










Leave a Reply