কুষ্টিয়ার খোকসায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত অন্তত ৩০

কুষ্টিয়া উপজেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার খোকসায় বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হয়েছেন অনন্ত ৩০ জন। তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের ওপরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সাড়ে ১১টার কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী পাংশার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি বালুভর্তি ডাম্পট্রাক (বগুড়া ড ১১-২৭০৩) ও রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-০০৯৩) খোকসার শিমুলিয়া কুটিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুইটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিকট শব্দে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ছিটকে রাস্তার পাশে পুকুরে গিয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের চিৎকার ও আকুতিতে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে,স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।


কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পরে ভ্যানটিকে বাঁচাতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন। আহতদের নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের রুহুল প্রামানিকের মেয়ে রাফিয়া (১৭) ও অজ্ঞাত এক পুরুষ (৫০)। অপরদিকে ঘটনাস্থলে মারা যান খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের জুনায়েদ আহাম্মেদের ছেলে নাবিলসহ (২৮) আরও একজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।


চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার কালুখালী এলাকার প্রিয়তোষের ছেলে রবিতোষ (৫০), অজ্ঞাত পুরুষ (৫০), রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আনিসুর রহমান (৭০), কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামের লোকমান আলীর স্ত্রী ঝুমা (২৫), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা একতারপুর গ্রামের সুরেন্দ্রের ছেলে সুব্রত (৬০), রাজবাড়ী জেলার শেখপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে শাহীন (৩০), কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ভারোলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রনি (২০), কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী রুপা (৪০), কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ঝাউদিয়া গ্রামের বাহার আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২০) ও রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার শিউরি গ্রামের শফি উদ্দিনের স্ত্রী আতশী (৫০) ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের মৃত আজিম প্রামানিকের ছেলে নাজিম প্রামানিক (৫৫)।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আরএমও ডাক্তার ইকবাল হাসান জানান, হাসপাতালে ভর্তি আহদের মধ্যে নাফিয়া ও অজ্ঞাত সাত বছরের শিশু মারা গেছে। তবে আহতদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে।


খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাস- ট্রাকের চালকরা পালিয়ে গেলেও যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।


শনিবার এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Alhamdulillah...