দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে নুরিয়া খাতুন (৫) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
একই ঘটনায় নদীতে পড়ে যাওয়া জামিলা খাতুন নামে আরেক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার ৫ আগস্ট বিকেলের দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভূরকাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ নুরিয়া খাতুন স্থানীয় আশিক শেখের মেয়ে। উদ্ধার হওয়া জামিলা খাতুন স্থানীয় ইজাজুল মণ্ডলের মেয়ে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছিল। এ সময় ২ শিশু জিও ব্যাগের ওপর বসে খেলছিল। হঠাৎ নদীর পাড় ধসে জিও ব্যাগসহ তারা নদীতে পড়ে যায়। জামিলা নিজেই কোনোমতে তীরে উঠে এলেও নুরিয়া পদ্মার প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।
পরে জামিলা কান্নাকাটি করে স্থানীয়দের ঘটনাটি জানালে এলাকাবাসী দ্রুত নদীর আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নুরিয়ার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নদীতে শিশু পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস, ঈশ্বরদী নৌ পুলিশ এবং কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পদ্মায় প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্তও শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি, সকালে খুলনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন।
কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পদ্মার পাড় ধসে ২ শিশু নদীতে পড়ে যায়। এর মধ্যে ১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নুরিয়া খাতুন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।










Leave a Reply