কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে নজরুল-বর্ষ উদযাপন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে গানে গানে শেষ হলো নজরুল বর্ষ ২০২৬ – ২৭ অনুষ্ঠান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে, গতকাল রবিবার ৯ আগস্ট সকালের দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আয়োজনে কলেজের অডিটোরিয়ামে নজরুল বর্ষ ২০২৬ – ২৭ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম সাজাদ।


আলোচক ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক নাজমুল হুসাইন।
স্বাগত বক্তা ছিলেন, নজরুল বর্ষ পালন কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন।


আলোচনা পর্বে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সাম্য ও মানবতার দর্শন এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী অবস্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।


আলোচনা সভার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশন এবং নৃত্য পরিবেশন করে।কবিতা আবৃত্তিতে নজরুলের দ্রোহী চেতনা, গান পরিবেশনে তাঁর প্রেম ও মানবতার দর্শন এবং নৃত্যে তাঁর সৃষ্টির সৌন্দর্য ও ছন্দময়তা ফুটে ওঠে।


শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়াম হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ ও সৃজনশীলতার এক মিলনমেলা।


বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি জাতীয় জীবনে তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানও আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা বাস্তবতা বদলালেও মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা নজরুল তাঁর সৃষ্টিতে ধারণ করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রেরণাদায়ী।


বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি জাতীয় জীবনে তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানও আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা বাস্তবতা বদলালেও মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা নজরুল তাঁর সৃষ্টিতে ধারণ করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রেরণাদায়ী।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাই কেবল অতীতের কোনো অধ্যায়ের কবি নন তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, চেতনা ও সৃজনশীলতারও এক অবিচ্ছেদ্য অনুপ্রেরণার নাম।


আয়োজনের প্রতিটি পর্বেই ফুটে ওঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার অনন্যতা। তাঁর কবিতার বিদ্রোহ, গানের প্রেম,সাহিত্যের
মানবতাবোধ ও সাম্যের দর্শন যেন পুরো আয়োজনজুড়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

Alhamdulillah...