এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করেছেন ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থীর অভিভাবক,অভিযোগ শিক্ষিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :  এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ শিক্ষিকার।


এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা ফারহানা ফেরদৌস (৪০), পিতা-মোঃ জাহামত আলী, সাং- কুষ্টিয়া কলেজ মোড়, থানা ও জেলা- কুষ্টিয়া অত্র থানায় হাজির হইয়া বিবাদী মোঃ রিপন উদ্দিন (৪৪), (বর্তমানে অগ্রনী ব্যাংক থানাপাড়া শাখার ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছেন) পিতা-মৃত মসলেম উদ্দিন, সাং- হাউজিং এস্ট্রেট ডি ব্লক, থানা ও জেলা- কুষ্টিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শিক্ষিকা বলেন, আমার প্রায় ০৫ বছর আগে আমার প্রথম স্বামীর সংঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আমার ঘরে একটি ১৪ বছর বয়সি ছেলে সন্তান আছে। ছেলেটি তার বাবার কাছে পি,টি,আই রোডে বসবাস করে। রিপন উদ্দিনের সাথে ০২ বছর আগে কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন ডিসি কোর্টের পাশে আই,ই,এল,টি,এস ক্লাসে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর হতে আমাকে মোবাইলের মাধ্যেমে ম্যাসেজ ও ফোন করতো এবং আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। রিপন উদ্দিনের সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাওয়া আসা ছিল। একসময় রিপন আমি ডিভোর্সী ও আমার সন্তান থাকা সত্বেয় আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন ও আমার সন্তানের দায়িত্ব নিতে চান।

প্রথমে আমি রাজি না হলে রিপন আমাকে বিভিন্ন ভাবে ফুসলাইয়া তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে। আমাকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে একাধিক বার দৈহিক সম্পর্ক  করেন। পরবর্তীতে আমি রিপনকে বিবাহের কথা বললে বিভিন্ন অজুহাত সহ আজকাল করে ঘোরাতে থাকে। গোপনে আমি জানতে পারি, রিপন বিভিন্ন মেয়েদের সাথে এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত আছে। গত ২৩/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে উক্ত বিষয় নিয়ে কথাকাটা কাটির এক পর্যায়ে রিপন আমার পড়নে থাকা ওড়নাতে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে আমার শরীরে অনেক অংশ পুড়ে যাই। রিপন ভয় পেয়ে আমাকে আগুনে পোড়া থেকে রক্ষা করে। আমি এখানো চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত রিপন কোন দায়-দায়িত্ব নেয়নি।  রিপনের পরিবারে এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে আমার উপরে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। টাকার বিনিময়ে আমার ইজ্জত ও অসুস্থতার ক্ষতিপূরণ দিতে চাচ্ছেন। সাংবাদিকের সাথে মুঠোফোনে ফারহানা ফেরদৌস বলেন, আমি চাই স্ত্রীর মর্যাদা। (০১)এক কোটি টাকা দেনমোহরের রিপন উদ্দিনকে আমার সাথে বিবাহ করতে হবে।


উক্ত অভিযোগের বিষয়ে রিপন উদ্দিন বলেন, ফারহানা ফেরদৌসী আমার ছেলে ও মেয়ের স্কুলের শিক্ষিকা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নোটিশ এবং তথ্য জানানোর জন্য অভিভাবকের কাছে এই ম্যাডাম ফোন করেন তার ধারাবাহিকতায় আমাকেও মাঝেমধ্যে কল করতেন। আমি একটি জায়গায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণে ভর্তি হয় সেখানে তিনি আগে থেকেই ভর্তি ছিলেন। একপর্যায়ে আমার পারিবারিকভাবে তার সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন হয়। আমি বুঝতেও পারিনি তার মনের মধ্যে এই ধরনের নোংরা চিন্তা ধারা রয়েছে। প্রায় দুই বছর আমার সন্তানদের শিক্ষিকা। তিনি একজন ডিভোর্সি অসহায় শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন আমার পরিবারে তার জন্য সহানুভূতির জায়গা গড়ে ওঠে। স্কুল ও ইংরেজি শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমার সাথে সেলফি উঠে সেগুলো সংরক্ষণ করে। তিনি আমার পারিবারিক অনেক বিষয় সুন্দরভাবে অবলোকন করেছে তিনি আমার কর্ম, সামাজিক আত্মসম্মানের, বিষয়গুলো উপলব্ধি করে আমাকে হানি ট্রাপে ফেলে ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আমি একজন বিবাহিত দুই সন্তানের জনক জানা সত্বেও আমাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আমি তাতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার হুমকি সহ নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে বিভিন্নভাবে ভয় দেখান। আমি তার হানি ট্রাপ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন কথা বলে থাকি সেই কথাগুলো পুঁজি করে এখন সামাজিক, পারিবারিক ভাবে আমাকে হেনস্তা করে আসছে। এ বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল রাসেলের কাছে জানায়। প্রিন্সিপাল রাসেল আমার কাছে অনৈতিকভাবে অনেক অর্থ দাবি করে ও শিক্ষিকার পক্ষ নিয়ে আমাকে অনেক বাজে কথা বলেন।


বর্তমানে বিভিন্ন কুচক্রী মহল ও এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের প্রিন্সিপালের সহযোগিতায় আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের পায়তারা করছে। আমি অগ্রণী ব্যাংকের থানাপাড়া শাখার ম্যানেজার হিসেবে নিয়োজিত ফারহানা ফেরদৌস আমার নামে বিভিন্ন অপপ্রচার এবং কুৎসা রচনা করে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা সহ প্রায় ২৬ টি ব্যাংকে ই-মেইলের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। যার দরুন আমাকে শাস্তি স্বরূপ সুনামগঞ্জ শাখায় বদলি করেছে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শিক্ষিকা সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ সহ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট।


কুষ্টিয়া মডেল থানার এস,আই মোঃ কামরুল হোসেন বলেন,ফারহানা ফেরদৌসের অভিযোগের ভিত্তিতে অগ্রণী ব্যাংকে থানাপাড়া শাখায় রিপন উদ্দিনের সাথে দেখা করতে গেলে একই সময় ফারহানা ফেরদৌস বাদী ওই ব্যাংকে বসে ছিলেন। আমি তাদের মধ্যে স্বাভাবিক আচরণ দেখি। যেহেতু অভিযোগ পত্রে রিপন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ করেছেন ঘটনাস্থলে সে বিষয়গুলো সঠিক বলে আমার তাৎক্ষণিক মনে হয়নি।


অভিযোগের বিবাদী রিপন উদ্দিন, তার পরিবার, দুই সন্তান কুষ্টিয়া মডেল থানায় ফারহানা ফেরদৌসের হানি ট্র্যাপ, ও মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে রিপন উদ্দিনের পারিবারিক, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সম্মান প্রতিষ্ঠায় মিথ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগকারী বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।