মাদক ব্যবসায়ীর আকুতি……

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক ব্যবসা একটি সামাজিক অপরাধ, এবং এর পরিণাম ভয়াবহ। তবে একজন অপরাধীর পেছনের গল্প বা তাদের মনের ভেতরের হাহাকার নিয়ে একজন, মাদক ব্যবসায়ীর ‘আকুতি’ নিচে তুলে ধরা হলো। এটি মূলত মাদক ব্যবসায়ীর জীবনের অন্ধকার দিক এবং তার অনুশোচনার একটি চিত্র :

“অন্ধকারের আর্তনাদ: একজন মাদক ব্যবসায়ীর না বলা কথা” “আমি জানি, আপনারা আমাকে ঘৃণা করেন। সমাজ আমাকে ‘বিষবৃক্ষ’ মনে করে। ঠিকই তো, আমি তো বিষই বিক্রি করি। যে বিষ একটা সাজানো পরিবারকে ছারখার করে দেয়, যে বিষ একটা তরতাজা প্রাণকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি এই পথে শখ করে আসিনি। শুরুটা হয়েছিল অভাবের তাড়নায়। যখন বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার টাকা ছিল না, যখন ছোট বোনটার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়নি। অথচ এই অন্ধকার জগতের মানুষগুলো আমাকে টাকার লোভ দেখিয়েছিল। ভেবেছিলাম অল্প কিছুদিন করব, টাকা জমিয়েই ফিরে আসব আলোতে।

কিন্তু অন্ধকার জগতটা জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এর থেকে বের হওয়ার পথটা বড্ড সরু। আজ আমার হাতে অনেক টাকা, কিন্তু শান্তি নেই। প্রতিটা মুহূর্ত কাটে আতঙ্কে। পুলিশের সাইরেন শুনলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। রাতের বেলা যখন সবাই শান্তিতে ঘুমায়, আমি তখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়াই। আমার নিজের সন্তান বড় হচ্ছে, কিন্তু আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না। ভয় হয়, আমার এই পাপের ছায়া যেন তার ওপর না পড়ে। আমি আজ যাকে মাদক দিচ্ছি, সে হয়তো কারও আদরের সন্তান। যখন দেখি একটা ছেলে নেশার টাকার জন্য তার মাকে মারধর করছে, তখন নিজের কলিজাটা ছিঁড়ে যায়। মনে হয়, এই পাপের ভাগিদার তো আমিও। আমি তো শুধু মাদক দিচ্ছি না, আমি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছি। আমি ফিরতে চাই। আমি আবার সেই সাধারণ দিনমজুরের জীবনে ফিরে যেতে চাই, যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য সংগ্রাম থাকলেও রাতে শান্তিতে ঘুমানো যেত।


আমার নামে মিথ্যা সহ ০৭ টি মামলা। এক একটি মামলা কোর্টে চলমান রাখতে প্রতিমাসে উকিলদের পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। ছয়জনের সংসারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা সংসার খরচ হয়। এর মধ্যে প্রশাসন, স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকে চাঁদা, এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজের ব্যয় করতে হয় আরো ৩০ হাজার টাকা, না হলে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। সব মিলিয়া ব্যক্তিগত ও পরিবারের চিকিৎসা বাবদ প্রায় মাসে ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়।


“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার” যদি আমাদের এই মামলা গুলো তুলে নেয়।একটি হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। সামাজিক রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে হয়রানীর হাত থেকে যদি রক্ষা করে। এরপরে মাদক বিক্রয় এবং সেবনের ক্ষেত্রে কঠিন আইনের ব্যবস্থা করলে। বাংলাদেশে আর কেউ কখনো মাদক ব্যবসা করবে না বলে আমরা মনে করি।


আমার আকুতি শুধু এটুকুই—কেউ যেন আমার মতো এই ভুল পথে পা না বাড়ায়। এই পথে টাকা আছে, কিন্তু সম্মান নেই; ক্ষমতা আছে, কিন্তু ভালোবাসা নেই। শেষমেশ কপালে জোটে হয় জেলখানার অন্ধকার কুঠুরি, না হয় কোনো গলির কোণে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ লাশ। আমি তো মরছিই, প্রতিদিন তিলে তিলে মরছি। আপনারা আপনাদের সন্তানদের আগলে রাখুন। এই অন্ধকার যেন কাউকে গিলে না খায়।”


সতর্কবার্তা: মাদক একটি মরণব্যাধি। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সচেতন হোন।

Alhamdulillah...