খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার খোকসার একটি বাজারের নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে ৩টি স্বর্ণের দোকানসহ ৫টি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার একতারপুর বাজারের এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত ডাকাত দল বাজারে হানা দেয়। তারা একে একে ৪ জন নৈশপ্রহরীকে ধরে এনে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের মধ্যে হাত বেঁধে বসিয়ে রাখে। এ সময় ডাকাতরা প্রাণতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সে দুটি শোরুম ও কারখানায় তালা ভেঙে লকারে রাখা প্রায় ২০ ভরি রুপা, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণের পুরাতন গহনা নিয়ে যায়। রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মেকার হান্নান শেখে ও চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকানের কয়েকটি মুঠোফোন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
নৈশপ্রহরীরা জানান, সশস্ত্র ডাকাত দলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিলো। তাদের প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিলো। ডাকাতদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিলো। তারা চলে যাওয়ার সময় ২ জন নৈশপ্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরের শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী প্রাণতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান। তার পরেও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এ ছাড়া তার দুই শোরুম ও কারখানার লাকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরাতন গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা ও ক্যাশ ড্রয়ারের থাকা ২৫ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন তাকে ফোন দিয়ে তার দোকানের ডাকাতির ঘটনা জানায়। তিনি বাজারে এসে দোকানের সাটার বন্ধ পান। পরে ভিতরের ঢুকে ডাকাতির ঘটনা টের পান।
পাখি ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ জানান, ৩০ বছর ব্যবসা করছেন, তার সামনে এমন ঘটনা ঘটেনি। ডাকাতরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রাখে। তার কাছে থেকে ধারকরে আনা ৫ হাজার টাকা ও মুঠোফোনটি নিয়ে যায়।
খোকসা বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারের ৫ জন পাহারাদারের ৪ জনকে আটকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি করেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। মামলা এখনো হয়নি।
কুষ্টিয়া খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন দাবি করেন, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং সাধারণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে অস্ত্রের মুখে নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রাখার পর কীভাবে এটি চুরি হয় এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।








Leave a Reply