নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের ৩ সদস্যের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।
শনিবার ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় মরদেহগুলো পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের আবহ।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত দেড়টায় কুষ্টিয়ার মিলপাড়ায় অবস্থিত কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতনীরীতি অনুযায়ী দেবাশীষ দত্ত ও তার ৩ বছরের ছেলে শর্ণশিষকে সমাহিত করা হয়।
দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ মুসলিম ধর্মানুসারে কুষ্টিয়ার কুঠিপাড়ায় অবস্থিত উপজেলা মডেল মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ নিহতদের পরিবারের হাতে সৎকার ও দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে তুলে দেন।
এ বিষয়ে স্বজনরা জানান, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেন দেবাশীষ। পরদিন বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৪ সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও শোক প্রকাশ করছেন।
সহকর্মীরা জানান, কর্মজীবনে দেবাশীষ দত্ত স্থানীয় নানা সমস্যা, মানুষের দুর্ভোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো সংবাদে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতায় অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করেছে।
কুষ্টিয়ায় একই পরিবারের ৪ জন দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৫), ৩ বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ায় সেখানে থাকা ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জন ছিলেন।
নিহতদের শেষ বিদায়ে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। সহকর্মী সাংবাদিকদের চোখেমুখেও ছিল শোকের ছাপ। এরপর যথা নিয়মে তাদের মরদেহ শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।










Leave a Reply