কুষ্টিয়ায় ঔষুধ দিয়ে তৈরী হচ্ছে মাদক , যুব সমাজ আসক্ত হচ্ছে এই মাদকে !

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : একজন রোগী সমাজে ডাক্তার, ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডাইগোনেস্টিক, ফার্মেসী এই ৫টি যায়গায় জিম্মি । সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভালো পদক্ষ্যেপ গ্রহন করেছে এদের বিরুদ্ধে। প্রশাসন কোনো পদক্ষ্যেপ নিলে শুরু হয় আন্দোলন , এই সময় রোগীদের কথা চিন্তা করে প্রশাসন কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারেন না এদের বিরুদ্ধে। সারা দেশের মানুষ আজ এদের কাছে জিম্মি । ফার্মেসী আইন অনুযায়ি ঔষুধের দাম কম নেওয়া যাবে না ,দাম ঔষুধের গায়ে লেখা যা তার কম নিলে ৫,০০০/=টাকা জরিমানা ,এ কারনে কোনো ফার্মেসীতে দাম কম রাখা হয় না।
তাহলে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যুবক সমাজের কাছে চেতনানাশক,ব্যথা নাশক,ঠান্ডার ঔষুধ বিক্রয় বন্ধ করেতে পরেন না কেন ?

এবার আসুন মূল বিষয়ে,
মাদক বলতে আমরা কিবুঝি ? ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা,আফিন,পেথেডিন,কোকেন ,সীশা ইত্যাদি ।
প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় কিছু কুচক্রী মহল বেছে নিয়েছে ঠান্ডা জনিত রোগের সিরাপ, ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ।এই ওষুধগুলোকে মিশ্রণের মাধ্যমে তৈরি করছে ভুলাদানা, ঝাটকা, ফুটুস নামক মাদক ।


নামীদামি কোম্পানীর কিছু অতি প্রয়োজনীয় ঔষুধ ব্যবহার করছে এসকল মাদক তৈরীতে,সিরামিন সিরাপ ইবনেসিনা কোম্পানী, স্কয়াার লাইজন এএমজি, সেডিল ২০ পিস ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ৭.৫/১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম ৩ এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিন কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজি পেইস ২এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫এমজি, ডিসোপান ২এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি এই সব ওষুধের সাথে মেশানো হচ্ছে ব্যথানাশক ঔষধ এসকেএফ এর টাপেন্টা, স্কয়ারের পেন্টাডল কাশির সিরাপ ফেনারগান সহ কয়েকটি সিরাপ।এখন মাদক মানে ঔষুধ আর কিছু অসাধু ফার্মেসী মালিক এ সকল মাদক ব্যবসায়ি। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই মিলছে এসকল ঔষধ।দেশের মেধাবী যুবকদের ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে এক শ্রেনীর কুচক্রী মহল। কুষ্টিয়া কলেজ মোড় ,হাসপাতাল মোড় , অলিতে-গলিতে রাতারাতি গড়ে ওঠা ফার্মেসী সহ কুষ্টিয়ার পাশ্ববর্তী অঞ্চলে লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে মাদক তৈরীতে ব্যবহৃত ঔষুধ।


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তাপস কুমার সরকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ জাতীয় ঔষধ গুলো অধিক মাত্রায় সেবন করলে ,চোখ,কিডনি ও লিভারের সমস্যা হয় । এমন কি প্রান হারানোর সম্ভাবনা থাকে।


তাই জেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, ঔষুধ প্রসাশন ,সিভিল সার্জন সহ সকল দপ্তরের কাছে সাধারন মানুষের আকুল আবেদন এসকল অসাধু ফার্মেসী মালিকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে করে অন্য কোনো ফার্মেসী মালিক অধিক লাভের আসায় ব্যবস্থা পত্র ছাড়া উঠতি বয়সী তরুন-তরুনীর কাছে এসকল মাদক তৈরীতে ব্যবহৃত ঔষুধ বিক্রি না করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.