চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : টিকটক করার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ওই নারীর মরদেহ শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে দাফনকাজে বাধা দেয় এলাকার লোকজন।
এর আগে বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্না আক্তার। সেখানে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গার শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোট থেকেই নাচ-গান করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেতেন। তিনি টিকটকে অশ্লীল নাচানাচি করতেন। এমনকি তার পরিবারের লোকজন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
এসব কাজে বাধা দিলে বহিরাগত লোকজন এনে এলাকাবাসীকে হুমকি ধমকি দিতেন। তাছাড়া তারা এখানকার স্থানীয় না। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় ভাড়ায় আসেন। সুবর্ণা আক্তারের দাফন তার বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেয়ার জন্য দাবি জানান তারা।স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে একজন বলেন, মেয়েটির চরিত্র ভালো ছিলো না।
এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছে। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।আরেকজন মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার কথা বললেও তারা অগ্রাহ্য করেন।
সুবর্ণা আক্তারের সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন সুবর্ণার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। কবর খুঁড়তে দেয়া হচ্ছে না। আমরা চিন্তা করছি অন্য কোথাও দাফন করার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানাল পাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। সংসারে পরপর দুই মেয়ে এক ছেলে জন্ম নেয়। সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে ছয় বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেকে বিয়ে করেন সুবর্ণা। সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা চলছে। মরদেহ দাফনের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।










Leave a Reply