রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে গতকাল মঙ্গলবার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।


পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ঘটনার পর প্রতিবেশী সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। এর আগে তার স্ত্রী শম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। তাদের ঘরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করত। শিশুটি ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।


পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটি পল্লবীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে তার মা-বাবার সঙ্গে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে থাকত। তাদের পাশের ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিনটি পরিবার বসবাস করত। একটি কক্ষে থাকতেন সোহেল-শম্পা দম্পতি।


গতকাল সকালে শিশুটিকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও না পেয়ে তারা প্রতিবেশী সোহেলের ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে খাটের নিচে এক পাশে রঙের বড় খালি কৌটার মধ্যে কাটা মাথা পাওয়া যায়।

সোহেলের স্ত্রী শম্পা রান্নাঘরে লুকিয়ে ছিল। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যায়। অপর দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।


পল্লবী থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোহেল কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। এর আগে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, হত্যার কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার গতকাল রাত ৮টায় সমকালকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পরপরই পলাতক সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে। সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়।Geographic Reference
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, সোহেল শিশুটিকে বাসায় নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে শিশুটি বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানাতে চাইলে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রথমে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর হাত কাটার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাইরে থেকে শিশুটির স্বজনরা দরজায় নক করলে লাশ রেখে বারান্দার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। তখন তার স্ত্রী ঘরে ছিলেন।


পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। গতকাল রাতে পল্লবী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাত ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর ধারালো ছোরা দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।