দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে পুশইনের জন্য আনা ১২ জন সীমান্তের শূন্যরেখার বিপরীতে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত এলাকায় ১৪৯ সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুশইন বিষয়ে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ শিশু, নারী ও পুরুষসহ মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের নজরে আসে বিষয়টি। পরে তারা দ্রুত প্রাগপুর বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করে।
পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ওই ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার নিউশিকার সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখা সংলগ্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ১২ জন নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তারা ৩টি পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উজির আলীর পরিবারের ৫ জন, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের ৩ জন এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের ৪ জন রয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এ বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রাগপুর বিওপির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি সূত্র।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত আছে।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।










Leave a Reply