অবৈধ যানবাহন সমস্ত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দেখেও না দেখার চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে নসিমন, করিমন ও লাটা হাম্বার মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি অবৈধ তিন চাকার যানগুলোর নির্দিষ্ট কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা বা কোম্পানি নেই। আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (বিশেষ করে ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল) থেকে স্থানীয় মেকানিক ও গ্যারেজ মালিকদের হাত ধরে এগুলোর উৎপত্তি ঘটে।

সেচ পাম্পের ডিজেল ইঞ্জিন, শ্যাফ্ট ও লোহার বডি জুড়ে দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো এই থ্রি-হুইলারগুলো বানানো শুরু হয়েছিল। নছিমন, করিমন, আলম সাধু, ডালাবডি পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, বেবি মডেল, স্কুল ভ্যান, ইজিবাইক, গরু টানার গাড়ি, মিনি ট্রাক ইত্যাদি নামের সমস্ত অবৈধ যানবাহন গুলো তৈরি প্রতিষ্ঠানের গডফাদার নামে খ্যাত কুষ্টিয়া ভাদালিয়া বাজারের আব্দুর রশিদ। তিনি এই ব্যবসা করে গড়েছেন তার নিজের সম্রাজ্য। কুষ্টিয়া মেটাল লিমিটেড, রশিদ সাইকেল স্টোর, কুষ্টিয়া ভি,আই,পি জিম, রশিদ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এর মতো প্রতিষ্ঠান মালিক তিনি।  তার হাত ধরে ধাদালিয়া বাজারে ছোট-বড় সহ প্রায় ৩০টির ও বেশি এই অবৈধ যানবাহন তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এই যানবাহনগুলো হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, রিজিকের ব্যবস্থা হয়েছে বলে, এদের কারণে বা মাধ্যমে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এগুলোকে বৈধতা দিক। না হয় এ সমস্ত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন।

সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান:
বাংলাদেশ প্যাসেঞ্জার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (যাত্রী কল্যাণ সমিতি) এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট দুর্ঘটনার হার: বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া মোট সড়ক দুর্ঘটনার ২৫% থেকে ৪৫% সরাসরি নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ইজিবাইকের মতো অবৈধ ও ধীরগতির যানবাহনের সংগে যুক্ত।


মৃত্যু ও হতাহত: প্রতি বছর এ জাতীয় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়া বা মহাসড়কে বেপরোয়া দূরপাল্লার বাসের সাথে ধাক্কা লেগে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।


কেন এই যানবাহনগুলো এতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
মানহীন ব্রেক ও স্টিয়ারিং: শ্যাফ্ট ও কম্বাইন্ড পার্টস দিয়ে গ্যারেজে তৈরি হওয়ায় জরুরি মুহূর্তে ব্রেক ধরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। |


হাইওয়েতে অনুপ্রবেশ: হাইওয়েতে দ্রুতগতির দূরপাল্লার যান ও ধীরগতির নসিমনের গতির তারতম্যের কারণে মহাসড়কে মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। |


লাইসেন্স ও ফিটনেসহীনতা: চালকদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে না; গাড়িগুলোরও কোনো বিআরটিএ (BRTA) অনুমোদন নেই।


অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন: ক্ষমতার দ্বিগুণ-তিনগুণ পণ্য ও যাত্রী বহন করার ফলে সহজেই ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। ক্ষমতা তুলনায় বেশি দ্রুত যাওয়া, লুকিং গ্লাস না থাকা এবং বড় গাড়িগুলোকে ওভারটেক করা অন্যতম কারণ দুর্ঘটনা।


পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া মহোদয় মোঃ আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর সাথে মিটিংয়ে থাকার দরুন এ বিষয়ে কথা বলতে পারেনি।


হাইকোর্টের নির্দেশে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক তদারকির অভাবে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে এখনও এগুলো অবাধে চলাচল করছে।

Alhamdulillah...