নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শতবর্ষী খয়েরচারা মাতৃ সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুমারখালী পৌরসভার খয়েরচারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সকালের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দিরে ভিড় করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেন কারিগর অধীর বিশ্বাস। এ সময় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাসসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে সবাই বাড়ি চলে যান।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মন্দিরে এসে কমিটির সদস্যরা বাঁশের বেড়া ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে গণেশ, লক্ষ্মী ও সিংহসহ ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। মন্দিরটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, রাত ২টার দিকে কাজ শেষে সবাই বাড়ি চলে যান। সকালে এসে প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। আর্থিক সংকটের কারণে মন্দিরে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শংকর মজুমদার বলেন, সমাজের একটি চক্র উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। প্রশাসনের কাছে দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বলেন, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো কুচক্রী মহল রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া মন্দির কমিটি ও মন্দিরের জমি নিয়ে কোনো পূর্ববিরোধ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply