কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

সজীব নন্দী (কুষ্টিয়া ) : কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) ২০২৬ বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। বেশির ভাগ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় শহরের বড়বাজার ঘাট, মহাশ্মশান ঘাট এবং পূন্যবাবুর ঘাটে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি আর ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি স্থানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।


কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। পরে শহরের বড়বাজার ঘাট, মহাশ্মশান ঘাট এবং নতুন করে প্রস্তুত করা পূন্যবাবুর ঘাট-সংলগ্ন নদীতে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।


এর আগে সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে চলে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। শাস্ত্রমতে, স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা দেবী দুর্গার সিঁথিতে দেওয়া সিঁদুর নিজের সিঁথিতে লাগিয়ে আশীর্বাদ নেন। পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে দেন তারা। সিঁদুর খেলা শেষে শেষবারের মতো দেবীর আরাধনা করেন তারা।এদিন মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠবেন সনাতনী নারীরা। দেবীর চরণের সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তুলবে তারা।


পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সব অশুভ শক্তির বিনাশ করে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখেন।


বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।


পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলার বিসর্জনঘাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ ও এসআরবির সদস্যরা। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিসর্জনের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেন পৌরসভার কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। প্রতিমা বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।


কুষ্টিয়া জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৫৮টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব।


পঞ্জিকামতে, সনাতনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মা দুর্গা স্বর্গে কৈলাশ পর্বত হতে ঘোড়ায় চড়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) মহাষষ্ঠী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শনিবার ও রোববার মহাসপ্তমী ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মহানবমী, ২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিমা বিসর্জন। আর পঞ্জিকামতে ২১ অক্টোবর বিজয়ী মহা দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সমাপ্ত হবে এবং মা দুর্গা তার ভক্তদের কাঁদিয়ে নৌকায় চড়ে স্বর্গে কৈলাশ পর্বতে গমন করবেন।২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী। এদিন দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ।


গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) ২০২৬ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি । ধর্মীয় আচার শেষে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাবেন এমন বিশ্বাস থেকেই বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আনন্দ, ভক্তি ও সম্প্রীতির আবহে দুর্গোৎসব শেষ হলেও ভক্তদের হৃদয়ে থেকে যাবে উৎসবের স্মৃতি ও আগামী বছরের অপেক্ষা।


শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।


এ বছর কুষ্টিয়া জেলায় ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ছয় দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। উৎসবের শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

Alhamdulillah...