আজ শুভ বিজয়া দশমী, মন্ডপে মন্ডপে বিদায়ের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই উৎসব। কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। তাই উৎসবের আনন্দের মাঝেও ভক্তদের মনে এখন বিদায়ের বিষাদ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবমীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের স্মৃতি। এই তিথিতে দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পরাজয় ঘটে। অপরদিকে, রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সময়েই রাবণকে বধ করেন রাম। নবমীর রাত পেরোলেই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা গড়াবে সমাপ্তির দিকে। তাই আনন্দের পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে বিদায়ের সুর।

দশমীর আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টি নিবেদন করে এবং একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে বিদায় জানান। এই রীতিকে বলা হয় ‘দেবী বরণ’।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবীর কাছে স্বামীর মঙ্গল ও পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন নারীরা। দেবীর চরণে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর নিজেদের মধ্যে সিঁদুর বিনিময় করেন তারা। কেউ একে অপরের কপালে, কেউ গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। নাচ-গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন সবাই।

সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি হলেও মণ্ডপে এ সময় অন্য ভক্তদেরও উপস্থিতি থাকে। অবিবাহিত তরুণীরাও অনেক ক্ষেত্রে হাতে ও গালে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকাল ৩টার পর থেকে বিসর্জন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ। মন্দিরে মন্দিরে বেজে ওঠে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খ ধ্বনিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে আবহমান বাংলা। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্র উচ্চারণ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে শুভ কামনা করা হয়।


বিজয়া দশমীতে থাকে সরকারি ছুটি। এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে।

পঞ্জিকামতে, সনাতনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মা দুর্গা স্বর্গে কৈলাশ পর্বত হতে ঘোড়ায় চড়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) মহাষষ্ঠী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শনিবার ও রোববার মহাসপ্তমী ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মহানবমী, ২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিমা বিসর্জন। আর পঞ্জিকামতে ২১ অক্টোবর বিজয়ী মহা দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সমাপ্ত হবে এবং মা দুর্গা তার ভক্তদের কাঁদিয়ে নৌকায় চড়ে স্বর্গে কৈলাশ পর্বতে গমন করবেন।২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী। এদিন দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। ধর্মীয় আচার শেষে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাবেন এমন বিশ্বাস থেকেই বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আনন্দ, ভক্তি ও সম্প্রীতির আবহে দুর্গোৎসব শেষ হলেও ভক্তদের হৃদয়ে থেকে যাবে উৎসবের স্মৃতি ও আগামী বছরের অপেক্ষা।