মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক আব্দুল বারেক নিহতের ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক আব্দুল বারেক নিহতের ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক। মামলাটি এজাহাভুক্ত করে হাইওয়ে পুলিশকে তদন্ত করতে দিয়েছেন থানা পুলিশ। এজাহারে বাদি দাবী করেছেন নিহতের বাড়ি ও বাসের মালিকের বাড়ি একই এলাকায়। সামাজিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নিজ মালিকানাধীন বাসের নিয়োগ করা ড্রাইভার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।


বুধবার বিকালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কের আলাউদ্দিন নগর কালুর মোড় এলাকায় বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কুমারখালী উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক আব্দুল বারী নিহত হন। নিহত আব্দুল বারী কুমারখালী উপজেলার কয়া মন্ডলপাড়া এলাকার মৃত হোসেন আলী মন্ডলের ছেলে এবং মাই টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক হাওয়া পত্রিকার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের বড় ভাই।


মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে অফিস শেষে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়ক দিয়ে মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল বারী। পথিমধ্যে কালুর মোড় এলাকায় বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহি রিফাত সুপার ডিলাক্র নামে (চুয়াডাঙ্গা-জ-১১০০০৮) বাসটি অস্বাভাবিকভাবে অন্য একটি ট্রাককে ওভারটের করার সময় আব্দুল বারীর মোটরসাইকেলটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। এতে করে হেলমেট থাকায় মাথা বাদে লাশের সর্ব শরীর ক্ষত-বিক্ষোত ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে সুরতাহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং দূর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী বাসটি জব্দ করে। পরে মৃতদেহের অবস্থা প্রচন্ড বিভৎস হওয়ায় ময়নাতদন্তের উপযুক্ত না থাকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাত্রে দাফন সম্পন্ন করা হয়।


মামলার বাদি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের বাড়ি ও বাসটির মালিকের বাড়ি একই এলাকায়। ড্রাইভার বাসটি না থামিকে ভায়ের মোটরসাইকেলটি চাপা দিয়ে প্রায় ৩০-৪০ হাত সামনের দিকে নিয়ে যেয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যায়। সামাজিক দ্বন্দের জের ধরে ড্রাইভারকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।


কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ক্ষতিসাধন ও হত্যার অভিযোগে বাসের মালিক, ড্রাইভার ও হেলপারকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলাটি হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানান ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.