প্রেসক্লাবে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা: ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেন মাহবুবউল আলম হানিফ

অনলাইন ডেস্ক :

 

জাতীয় প্রেসক্লাবে নিজের শরীরে আগুন দেওয়া মো. আনিসুর রহমান গাজী (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

 

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, তার যে সমস্যা তা স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি), চেয়ারম্যানের সঙ্গে শেয়ার করেননি। বিষয়টি জানলে আমরা অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এ মৃত্যুর পেছনে যারা দায়ী তাদের নামে মামলা করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ৪ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মো. আনিসুর রহমান গাজী। পরে তকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে ওই ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় মো. আলী নামে এক ব্যক্তি জানান, আনিস গত ২ মাস আগে একটি কোম্পানির কাছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাওনার দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন করেছিলেন। আজ হঠাৎ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে নিজের শরীরে আগুন দেন।

 

এদিকে দগ্ধ গাজী আনিসের পরিচিত তুহিন নামে এক ব্যক্তি মোবাইলের মাধ্যমে জানান, ব্যবসার জন্য বেশ কয়েক বছর আগে একটি কোম্পানির মালিকের স্ত্রীকে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা দেন আনিস। এই টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের  তিনতলায় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন গত মে মাসের দিকে।

 

ওই কোম্পানির মালিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলাসহ হুমকি-ধামকির মামলাও আছে কুষ্টিয়া জেলা থানা এলাকায়। এছাড়া গাজী আনিস একজন কবি, তার ১০ থেকে ১২টি কবিতার বই বেরিয়েছে।

 

আনিসের ভাই নজরুল ইসলাম জানান, তাদের বাবার নাম মৃত ইব্রাহীম হোসেন বিশ্বাস। ৯১-৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী স্বপ্না। ৩ মেয়ের জনক তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি চাকরিও করতেন তিনি। ওই কোম্পানির কাছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পান। এজন্য কয়েক দফায় সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তিনি আজ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *