চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৪৪০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ

ডিপি ডেস্ক :

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৪০ কার্টন অবৈধভাবে আনা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে এই অভিযান চালানো হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, রাত ৯টা ৫২ মিনিটে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান মিনহাজুল করিম সজীব নামে এক যাত্রী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও এনএসআই চট্টগ্রামের যৌথ দল তার লাগেজ  তল্লাশি করে ২০০ কার্টন বিদেশি সিগারেট পায়।

একই সময় বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমনী হলের লাগেজ বেল্টের ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় আরো  ২৪০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা সিগারেটের পরিমাণ ৪৪০ কার্টন।

জব্দ সিগারেটের বাজার মূল্য ও রাজস্ব হিসাব করে দেখা যায়, যাত্রীর কাছ থেকে ২০০ কার্টন জব্দ সিগারেটের রাজস্ব মূল্য সাত লাখ টাকা। আর পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ ২৪০ কার্টনের মূল্য ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা যার রাজস্ব মূল্য ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

​বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, জব্দ সিগারেট বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রয়েছে। আটক যাত্রী মিনহাজুল করিম সজীবকে (ফটিকছড়ির বাসিন্দা) মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান চক্রের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত কয়েক মাসে এখানে একাধিক বড় চালান ধরা পড়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে শারজাহ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কার্টন ইজি লাইট ও মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ টাকা। মে মাসে নামহীন পার্সেল হিসেবে আসা বড় একটি চালানে প্রায় ১২০০ কার্টন সিগারেট পাওয়া গিয়েছিল। ওই সময় কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব না হলেও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছিল, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এগুলো দেশের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। 

এ ছাড়া ২০২৪ সালের শেষার্ধে গত বছরের শেষের দিকেও একাধিক অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার সমমূল্যের সিগারেট জব্দ করেছিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে দুবাই, ওমান ও শারজাহ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব সিগারেট আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চ শুল্ক ফাঁকি দিতেই চোরাকারবারিরা ব্যাগেজ রুলসের বাইরে গিয়ে এসব বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *