ম্যার্কেল কঠোর সমালোচনায়, ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করলেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল।

গতকাল শনিবার জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে ট্রাম্পের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ম্যার্কেল। ওই সম্মেলনেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলোকে ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলন মঞ্চে এই দুই রাজনীতিকের বিতর্কের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মত-পথে বিভাজন রয়েছে।

সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতাদের মধ্যেও আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে এই বিভাজনের দিকটি।

মিউনিখের ব্যাভেরিয়া হোফ হোটেলে অনুষ্ঠিত ৫৫তম নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেন ম্যার্কেল ও পেন্স।

পেন্স ইউরোপের দেশগুলোকে ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেন ম্যার্কেল।

ম্যার্কেল বলেন, জার্মানিতে তৈরি গাড়ি যদি হঠাৎ করেই মার্কিন সরকার তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য হুমকি বলে মনে করে, আর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়, তবে তা তাঁদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছেদ করে, তবে তা ভ্রান্ত রাজনীতি হবে বলে মনে করেন তিনি।

সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান পারমাণবিক চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য অবরোধের বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাগাদা দেন। তিনি রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেন। বলেন, এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় বন্ধুদের কোনো বিপদ হলে তাদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হবে না।

পেন্স জার্মানি-রাশিয়ার যৌথ নর্থ স্ট্রিম গ্যাসলাইন প্রকল্পের বিরুদ্ধে যেসব ইউরোপীয় দেশ সমালোচনা করেছে, তাদের ধন্যবাদ জানান।

পরে ম্যার্কেল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিল করলে হয়তো চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ব। কিন্তু আমরা কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়াকেও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পেতে চাই।’

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্যিক অবরোধের বিরোধিতা করেন ম্যার্কেল। এমনটা করলে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক লেনদেন অরক্ষিত হবে বলে মনে করেন ম্যার্কেল।

ম্যার্কেল বলেন, পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে। বিশ্বব্যাপী নানা সংকট ও সমস্যার বিষয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। আলোচনা করতে হবে। হিংসা, অবরোধ দিয়ে বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে না।

এদিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন চলাকালে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ন্যাটোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.