কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আজ থেকে শুরু ৩ দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব!

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) ১লা কার্তিক দিবসটি পালনে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে থাকছে ৩ দিনের আয়োজন। তাইতো সাঁইজির আত্মার টানে ভাবতত্বে মত্ত হতে আখড়াবাড়িতে ছুটে এসেছেন বাউল, সাধু ও ভক্তবৃন্দ। এ নিয়ে খুশি সাধু-ভক্ত ও লালন অনুসারীরা।


কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু, বাউল-সাধক, ভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘লালন স্মরণানুষ্ঠান’। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সচিব ও মহাপরিচালক মোহা. হারুন-অর-রশীদ। আলোচনা শেষে পরিবেশিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি আয়োজিত এই স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। একাডেমির মূল মঞ্চে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন হাসান।


অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. রশিদুন্নবী। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।


আলোচনা পর্ব শেষে একাডেমির শিল্পীবৃন্দ ও দেশের খ্যাতনামা লালন শিল্পীরা গভীর রাত পর্যন্ত সাঁইজির আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। আখড়াবাড়ির খণ্ড খণ্ড আস্তানায় এখন সাধু-বাউলদের সুরের মুর্চ্ছনায় এক মহতী মিলনমেলা গড়ে উঠেছে।


ইতিমধ্যেই আখড়াবাড়ীতে দেশের দুর দুরান্ত থেকে বাউল, ফকির ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখোরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নানা কিসিমের বাউল ফকিররা গোল হয়ে বসে লালনের গান পরিবেশন করছেন।


মানবতাবাদী মানুষ হতে একজন গুরু বা মুর্শিদ ধরার বিষয়ে শিক্ষা দিতে সাধক লালন সাঁই আমরণ কাজ করেছেন। সংগীত সাধক লালন শাহ তাঁর গানের ভাষায় বলেছে ‘মানুষ ছেড়ে ক্ষেপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি..।এমন প্রায় ৩ হাজারের অধিক গান তিনি রচনা করে মানবাতাবাদী কবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।


শনিবার সাধুদের রীতিতে অনুষ্ঠান শুরু হলেও একে ঘিরে গ্রামীণ মেলা চলবে তিনদিন ধরে। সেই সাথে আলোচনাসভা ও গভীর রাত অবধি লালনের গানের আসরের আয়োজন থাকবে। মেলা শেষ হবে আগামী ১৯ অক্টোবর সোমবার।


আয়োজকরা বলছেন, দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আগত ভক্তরা মনে করেন, দুই হাজার বছর পূর্বে দার্শনিক সক্রেটিসের সেই বিখ্যাত বাণী ‘নো দাই সেলফ’ এর মতো মর্মকথা যেভাবে মানুষের মনে দাগ কেটেছিল এবং বিশ্ব সভ্যতার ক্রমবিকাশকে প্রভাবিত করেছিল। এতকাল পরে এসে আধ্যাত্মিক চিন্তার দার্শনিক মহামতি লালনের সংগীত ও ধর্ম-দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে মুক্ত চিন্তক গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


যদিও এর আগে বাউল সাধক ফকির লালন শাহের জীবদ্দশা ( ১৭৭৪ – ১৮৯০) থেকে চলে আসা দোল উৎসব এবং তিরোধান দিবস স্মরণেকে (১লা কার্তিক ১২৯৭) ঘিরে এই আধ্যাত্মিক দর্শনের গুরু লালন শাহের ভক্ত অনুসারীরা একেবারেই নিজস্ব ঘরানার রীতিতে আচার অনুষ্ঠানের মধ্যেই সাঁইজিকে স্মরণ করতে এদিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। তারই বাঁধভাঙ্গা সাধুর জোয়ারে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাইজির তীর্থ ধাম।


পহেলা কার্তিক তাঁর ভক্তরা গুরুও প্রতি চোখের জলের সুধা দিয়ে গভীর ভক্তি প্রদান করেন। তাঁদের মত, দৃশ্যমান গুরু খুশি হলে তবেই অদৃশ্যমান মহান সৃষ্টিকর্তা খুশি। মানুষ গুরুর দিক্ষা দিতেই গুরুর প্রতি ভাব বিনিময় করতে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের বাড়ীতে তাঁর ভক্তদের এই মিলন মেলা।


উৎসবকে ঘিরে দেশের দুর-দুরান্ত থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন। ৩ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের প্রতিদিন যথারীতি থাকছে আলোচনা সভা,মেলা ও নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


ফকির সাধু আনু ফকির বলেন, এবারে সাঁইজির অনুষ্ঠান বেশ বড় আকারে হচ্ছে। এতে আমরা খুশি। লালনের দর্শন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এবারে আগের তুলনায় বেশি লোকসমাগম হবে এবং হচ্ছে।


‘সহজ মানুষ ভজে দেখ্নারে মন দিব্য জ্ঞানে, পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে’ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবকে ভজন সাধনের মধ্যদিয়ে বর্তমানেই অমূল্য নিধি অর্থাৎ স্রোষ্টার সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সহজ মানুষের সন্ধান। আর সেই সহজ মানুষ ছিলেন দরবেশ ফকির লালন সাঁইজি। তাইতো নিজেদের আত্মার শুদ্ধির জন্য সাঁইজির তিরোধান দিবসে তাঁর আখড়াবাড়িতে ছুটে আসা। আর এখানে এলেই দেখামিলে জীবের দর্শন, মিলে আত্মার শান্তি এমনটি জানিয়েছেন আখড়াবাড়িতে অবস্থান নেওয়া প্রবীণ সাধু দরবেশ নহির ফকির।


১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১লা কার্তিক সাধক পুরুষ ফকির লালন শাহ্ দেহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ভক্ত ও অনুসারীরা আঁখড়া বাড়িতে সাধুসঙ্গসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে আসছেন। ৩দিনের এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আখড়াবাড়ি চত্বরে বসেছে গ্রামীণ মেলা।এদিকে উৎসব শুরুর আগেই গতকালই দেখা মিলেছে অনেক দর্শনার্থীর।


প্রতিবছর ১ কার্তিক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালন করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় লালন মঞ্চে আলোচনা শেষে লালন একাডেমির পরিবেশনায়  লালন সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং তা চলবে গভীর রাত পর্যন্ত।


এদিকে উৎসব কেন্দ্র করে কালী নদীর তীর ঘেঁষে বসেছে বিশাল লালন মেলা। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ওয়াচ টাওয়ারসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। লালন তিরোধান দিবস সমাপ্তি ঘটবে আগামী সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে।










কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হবেন সাধু, বাউল-সাধক, ভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘লালন স্মরণানুষ্ঠান’। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সচিব ও মহাপরিচালক মোহা. হারুন-অর-রশীদ। আলোচনা শেষে পরিবেশিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি আয়োজিত এই স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। একাডেমির মূল মঞ্চে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন হাসান।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. রশিদুন্নবী। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে একাডেমির শিল্পীবৃন্দ ও দেশের খ্যাতনামা লালন শিল্পীরা গভীর রাত পর্যন্ত সাঁইজির আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। আখড়াবাড়ির খণ্ড খণ্ড আস্তানায় এখন সাধু-বাউলদের সুরের মুর্চ্ছনায় এক মহতী মিলনমেলা গড়ে উঠেছে।
এদিকে উৎসব কেন্দ্র করে কালি নদীর তীর ঘেঁষে বসেছে বিশাল লালন মেলা। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ওয়াচ টাওয়ারসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঐতিহাসিক এই লালন স্মরণোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে আগামী সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে।

Alhamdulillah...