ভারতে লন্ডন ফেরতদের শরীরে মিলছে করোনাভাইরাস, এখন পর্যন্ত শনাক্ত ২০

অনলাইন ডেস্ক : ইউরোপে ধরা পড়েছে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস। আর সে কারণে ইউরোপের সঙ্গে অনেক দেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ। ভারতও ইউরোপের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে, কিন্তু বন্ধ রাখার আগ পর্যন্ত দু’দিনে অন্তত ২০ জন ব্রিটেন ফেরত যাত্রী ও বিমানকর্মীদের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

 

বুধবার রাতে ইউরোপের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করতে যাচ্ছে ভারত সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত গত দু’দিনে অন্তত ২০ জন ব্রিটেন ফেরত যাত্রী ও বিমানকর্মীর শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইউরোপ থেকে সরাসরি দিল্লি, অমৃতসর, কলকাতা, আমদাবাদ এবং চেন্নাই বিমানবন্দরে নামেন তারা। সে সময় বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট করলে তাদের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

ওই ২০ জনের করোনার নমুনা ইতিমধ্যেই ভারতের পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে। ব্রিটেন এবং ইতালিতে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ব্রিটেন ফেরত যাত্রীরা সেই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস ভারতে নিয়ে এসেছে কিনা সেটা জানতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

এতে যদি এই নতুন ধরনের ভাইরাস ধরা পড়ে তাহলে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত যত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাতে নতুন ধরনের করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ব্রিটেন ফেরত যেসব যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের ঘিরে এখন উদ্বেগ, তাদের মধ্যে ৫ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। ৭ জন যাত্রী এবং একজন বিমানকর্মী নামেন অমৃতসর বিমানবন্দরে। কলকাতায় নামেন দুজন, আমদাবাদে নামেন ৪ জন এবং চেন্নাইয়ে নামেন একজন করে যাত্রী।

 

এই মুহূর্তে তাদের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুরো ভারতবাসী। কারণ চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তির মাধ্যমেই ভারতের কেরালায় প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতে এক কোটির বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

 

অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে সুস্থতার হার বেশি হলেও, করোনার নতুন ধরনের ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ৭০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এ কারণেই উদ্বেগ বেড়েছে ভারত সরকারের।

 

তাই ভারত সরকার ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সাময়িকভাবে ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ রাখবে। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত যে কয়টি বিমান ব্রিটেন থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাতে মোট ৪৭০ জন যাত্রী ফিরেছেন। তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বিমানবন্দরগুলোর আরটি-পিসিআর টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলা জানিয়েছে ভারত সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.